জেট ফুয়েলের দাম কমেছে প্রায় ১৬ শতাংশ

হ্রাসকৃত দাম স্থিতিশীল থাকলে দেশে কমতে পারে উড়োজাহাজের ভাড়া

উড়োজাহাজের জ্বালানি জেট ফুয়েলের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। অভ্যন্তরীণ রুটের জন্য প্রতি লিটারে দাম কমেছে ১৭ টাকা ৪৩ পয়সা।

উড়োজাহাজের জ্বালানি জেট ফুয়েলের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। অভ্যন্তরীণ রুটের জন্য প্রতি লিটারে দাম কমেছে ১৭ টাকা ৪৩ পয়সা। আন্তর্জাতিক রুটে দাম কমেছে দশমিক ১৪৩৪ ডলার (গতকালের বিনিময় হার অনুযায়ী ১৭ টাকা ৪৫ পয়সা)। জেট ফুয়েলের দাম কমায় অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে উড়োজাহাজ ভাড়া কমতে পারে। একাধিক এয়ারলাইনস বণিক বার্তাকে ভাড়া সমন্বয়ের প্রক্রিয়া শুরু করার কথা জানিয়েছে।

আকাশ পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি উড়োজাহাজ পরিচালনায় যত খরচ হয়, তার ৪০ শতাংশ জ্বালানি তেলের পেছনে যায়। তেলের দাম বাড়লে বা কমলে তার উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়ে উড়োজাহাজের ভাড়ায়। বাংলাদেশে জেট ফুয়েলের দাম কমে যাওয়ায় দেশীয় এয়ারলাইনস যেমন লাভবান হবে, তেমনি বিদেশী এয়ারলাইনসগুলোও সমানভাবে উপকৃত হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

জেট ফুয়েলের দাম কমায় ভাড়া সমন্বয়ে এরই মধ্যে হিসাব-নিকাশ শুরু করেছে দেশের বেসরকারি আকাশ পরিবহন সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস। সংস্থাটির মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) কামরুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বণিক বার্তাকে বলেন, ‘‌তেলের দাম কমে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষ ভাড়া সমন্বয়ের জন্য হিসাব-নিকাশ করছে। এটা হয়তো একটু সময় নিতে পারে।’

সময় লাগার বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘‌যখন জেট ফুয়েলের দাম বাড়ে, সেটা রাতারাতি বেড়ে যায়। কিন্তু তার আগেই পরবর্তী কিছুদিনের টিকিট কিন্তু বিক্রি হয়ে গেছে। তাই এসব টিকিটে বর্ধিত ভাড়া সমন্বয়ের সুযোগ থাকে না। এখন যেহেতু তেলের দাম কমেছে, সেই পরিপ্রেক্ষিতে ভাড়া সমন্বয়ের বিষয়টি আমাদের ম্যানেজমেন্টের মাথায় আছে।’

দেশে জেট ফুয়েলের নতুন দাম মঙ্গলবার দিবাগত রাত থেকে কার্যকর হয়েছে। হ্রাসকৃত দাম স্থিতিশীল থাকে কিনা তা পর্যবেক্ষণের পর ভাড়া সমন্বয় করতে চায় রাষ্ট্রায়ত্ত আকাশ পরিবহন সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। সংস্থাটির মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) এবিএম রওশন কবীর এ বিষয়ে বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ভাড়া সমন্বয়ের কোনো সিদ্ধান্ত আমরা নিইনি। ‌মাত্রই তো তেলের দাম কমল। এ দাম স্থিতিশীল থাকে কিনা সেটা আমরা পর্যবেক্ষণ করব। আমাদের প্রতিযোগী যেসব এয়ারলাইনস আছে, তারা ভাড়া সমন্বয় করছে কিনা সেটাও পর্যবেক্ষণ করা হবে।’

দেশের অভ্যন্তরীণ রুটে উড়োজাহাজের জন্য আগে জেট ফুয়েলের দাম ছিল ১১১ টাকা। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে তা কমে ৯৩ টাকা ৫৭ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। এ দাম আরো কমার আশা করছে বেসরকারি আকাশ পরিবহন সংস্থা এয়ার অ্যাস্ট্রা। সংস্থাটির উপব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) সাকিব হাসান শুভ এ প্রসঙ্গে বণিক বার্তাকে বলেন, ‘‌আমরা প্রত্যাশা করছি, অভ্যন্তরীণ বাজারের জন্য ফুয়েলের দাম আরো কম হবে। লোকাল ফুয়েলের দামের ওপরে এখনো ১৫ শতাংশ ভ্যাট-ট্যাক্স আছে। এটা তুলে নেয়ার অনুরোধ করে আমরা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোয় যোগাযোগ করছি। অন্যদিকে মাত্রই তো জেট ফুয়েলের দাম কমল। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রাইস অ্যাডজাস্টমেন্ট নিয়ে আমরা কাজ করছি। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’

এয়ারলাইনসগুলো বাংলাদেশে জেট ফুয়েলের দাম কমানোর দাবি দীর্ঘদিন ধরেই করে আসছিল। দাম কমায় দেশী এয়ারলাইনসগুলো লাভবান হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের পরিচালন ব্যয় কমবে। একইভাবে বিদেশী এয়ারলাইনসগুলোরও অভিযোগ ছিল যে বাংলাদেশে জেট ফুয়েলের দাম বেশি। তেলের দাম কমে যাওয়ায় এখন বিদেশী এয়ারলাইনসগুলোও সুবিধা পাবে বলে মনে করেন আকাশ পরিবহন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম। বিষয়টি নিয়ে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘‌শুধু দাম কমালেই হবে না, হ্রাসকৃত দাম ধরে রাখতে হবে। একবার কমিয়ে দুদিন পর আবার বাড়িয়ে দিলে তা কোনো কাজে আসবে না। সবচেয়ে ভালো হলো আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে বাংলাদেশে জেট ফুয়েলের দামে সংগতি রেখে চলা। অতীতে আমরা দেখেছি, সারা দুনিয়ায় যখন তেলের দাম কমেছে, তখন আমাদের এখানে বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘‌দাম কমানো একটা ভালো সিদ্ধান্ত। এটার সঙ্গে এয়ারপোর্টে পার্কিং, ল্যান্ডিং, অ্যারোনটিক্যাল, নেভিগেশনাল, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং চার্জসহ বিভিন্ন ধরনের ফি এবং উড়োজাহাজ ও উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশ আনার জন্য যে ট্যাক্স কাঠামো আছে, সেটাতেও পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতকে বাঁচিয়ে রাখতে ফি, চার্জ ও ট্যাক্স সহনীয় পর্যায়ে রাখাটা খুব জরুরি।’

আরও